আপনার ব্যাবসার জন্য কি একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট প্রয়োজন? হতে পারে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, সিপিএ মার্কেটিং, অথবা গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার জন্য একটি নতুন ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় সেটা জানতে চাচ্ছেন।
অনেকে আবার ই-কমার্স ব্যাবসা করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করার উপায় জানতে চায়।
কোনো ব্যাপার না, আজকের এই পোস্টে আমি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় সে বিষয়টি সম্পূর্নরূপে আলোচনা করবো।
কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করবো সে বিষয়গুলো দেখার আগে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য যে যে জিনিস লাগে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কি কি লাগে?
ওয়েবসাইট বানাতে গেলে প্রথমে ওয়েবসাইট তৈরির কিছু জিনিসপত্র যোগাড় করে নিতে হয়।
তার মধ্যে রয়েছে, ডোমেইন, হোস্টিং, থিম, প্লাগিন, ইত্যাদি।
মূলত একটি ডোমেইন এবং একটি হোস্টিং হলেই ওয়েবসাইট বানানো যায়। কিন্তু এর সাথে একটি থিম এবং একটি প্লাগিন হলে আরো সুন্দর ডিজাইনের ওয়েবসাইট বানানো যায়।
নতুন একটি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয়?
ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথবে একটি কম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হয়। তারপর কন্ট্রোল প্যানেল থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়।
ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করলে আপনি এর ড্যাশবোর্ডে লগিন করতে পারবেন। তখন সেখান থেকে একটি থিম ইন্সটল করলেই সুন্দর ডিজাইনের একটি ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন।
ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় তার একটি প্রাথমিক ধারণা আশা করি পেয়েছেন। এখন কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনা থেকে নিয়ে শুরু করে সম্পূর্ন ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়া আলোচনা করবো।
কিভাবে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হয়?
ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করা একদম সহজ। যেকোনো কম্পানি থেকে এক বছরের জন্য হোস্টিং কিনলে একটি ফ্রি ডোমেইন পাওয়া যায়।
বাংলাদেশি কম্পানি থেকে বিকাশ অথবা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস ক্রয় করা যায়। কিন্তু যদি ইন্টারনেশনাল কম্পানি থেকে ডোমেইন হোস্টিং সার্ভিস কিনতে চান তাহলে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড দরকার হবে।
ভালোমানের বাংলাদেশি ডোমেইন-হোস্টিং কম্পানিঃ
- Exonhost
- Hostever
ভালোমানের ইন্টারনেশনাল হোস্টিং প্রোভাইডারঃ
- BlueHost
- Hostiger
- NameCheap
- SiteGround
ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা খরচ হতে পারে?
ওয়েবসাইট তৈরির খরচ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ভিত্তিতে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন ২০০০-৩০০০ টাকা হলেই আপনি একটি সিম্পল ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। কিন্তু যদি ই-কমার্স ওয়েবসাইট অথবা মার্কেটপ্লেস ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকাও লাগতে পারে।
সেটি আপনার ওয়েবসাইটে ডিজাইন, চাহিদা, স্পিড ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। আপনি যদি শুধুমাত্র লেখালেখি করে আয় অর্থাৎ ব্লগিং করার জন্য ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে ২০০০-৩০০০ টাকা হলেই হয়ে যাবে আশা করি।
আমি কি নিজে নিজে ওয়েবসাইট বানাতে পারবো?
নতুনদের মাঝে এই প্রশ্নটি বারবার ঘুরপাক খায় যে আমি কি নিজে নিজে ওয়েবসাইট বানাতে পারবো, নাকি ওয়েব ডেভেলোপার ভাড়া করতে হবে, নিজে নিজে ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় ইত্যাদি।
আমি তাদেরকে বলতে চাই, আপনি চাইলে নিজে নিজেই একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন যদি আপনার মধ্যে শেখার এবং ধৈর্য ধরার আগ্রহ থাকে।
সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট বানাতে গিয়ে যেকোনো সমস্যার সমাধান আপনাকে নিজেই করতে হবে গুগলে সার্চ করে কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখে।
মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় কি?
হ্যা, মোবাইল দিয়েই আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। সেজন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে WordPress অ্যাপ্লিকেশানটি ডাউনলোড করে নিলে কাজ করতে সুবিধা হয়।
তাছাড়া আপনি Google Chrome অথবা অন্য যেকোনো ব্রাউজার দিয়ে মোবাইলের সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরি এবং পরিচালনা করতে পারবেন।
তবে, মোবাইলের স্ক্রিন ছোট হওয়ার কারনে আপনার একটু অসুবিধা হবে। যেন অসুবিধা কম হয় সেজন্য আমি মোবাইলের সাথে একটি মাউস এবং কি-বোর্ড কানেক্ট করে নেওয়ার সাজেশন দিয়ে থাকি।
ফ্রি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয়
আপনার কাছে যদি টাকা না থাকে তাহলে আপনি মোবাইল/কম্পিউটার দিয়ে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। তবে, সেখানে আপনি মেইন ডোমেইন এর পরিবর্তে একটি সাব-ডোমেইন পাবেন।
উদাহরনস্বরূপ, আপনি যদি Blogger দিয়ে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেস এরকম হবেঃ example.blogspot.com
ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ
ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় তা ধাপে ধাপে বিশ্লেষন করা হলো। উল্লিখিত ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ অনুসরন করলে আশা করি শুরু থেকে একটি ওয়েবসাইট আপনি তৈরি করতে পারবেন।
১। প্রথমে একটি ডোমেইন-হোস্টিং কিনুন
একটি ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই ওয়েবসাইট বানাতে গেলে প্রথমে আপনাকে একটি ডোমেইন এবং একটি হোস্টিং কিনতে হবে।
একটি .com ডোমেইন এর দাম সর্বনিন্ম ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যদি আপনার কাছে ইন্টারনেশনাল মাস্টারকার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ড না থাকে তাহলে বাংলাদেশি কম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করুন।
২। ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন
একটি হোস্টিং সার্ভিস ক্রয় করার পর আপনাকে সেটি পরিচালনা করার জন্য আপনাকে একটি কন্ট্রোল প্যানেল দেওয়া হবে। কম্পানিভেদে বিভিন্ন ধরনের কন্ট্রোল প্যানেল হয়ে থাকে এর মধ্যে cPanel অন্যতম।
ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যার সাহায্যে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এটিকে বিনা কোডিং-এ ওয়েবসাইট বানানোর সফটওয়্যার ও বলা হয়।
৩। ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল করুন
ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পর আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোড থেকে একটি থিম ইন্সটল করতে হবে। কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডে লগিন করবেন?
আপনার ওয়েবসাইটের নামের পর /wp-admin লিখে সার্চ করলেই লগিন করার জন্য একটি অপশন চলে আসবে। সেখানে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস এর ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করতে হবে যেটি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার সময় দিয়েছিলেন।
এরপর ড্যাশবোর্ডের বামপাশের মেনুতে Appearance নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন সেটাতে ক্লিক করলেই Theme অপশন খুজে পাবেন।
Add a New Theme অপশন থেকে আপনাকে নতুন একটি ফ্রি থিম ইন্সটল করে এক্টিভেট করে নিতে হবে।
থিম এক্টিভেট করার পর থিমের মধ্যে থাকা যেকোনো একটি DEMO import করলেই আপনার সাইটের ডিজাইন ঐ ডেমুর মতো হয়ে যাবে।
সবচেয়ে ভালো ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম হচ্ছেঃ
- Asta
- GeneratePress
- Neve
৪। ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ইন্সটল করুন
ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল করার মানে হলো আপনার সাইটের জন্য একটি রেডিমেট ডিজাইন করা হয়ে গেলো। এখন থিম কাস্টমাইজেসন সহ ওয়েবসাইটের খুটিনাটি আরো কাজ করতে দরকার হবে বিভিন্ন ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন এর।
সেজন্য ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার প্রয়োজনীয় প্লাগ-ইন ইন্সটল করতে হবে। ড্যাশবোর্ডের বামপাশের মেনুতে Plugins নামক অপশন রয়েছে সেখানে থেকে Add new Plugin এ ক্লিক করে নতুন প্লাগিন ইন্সটল করতে হয়।
প্রয়োজনীয় প্লাগিনগুলো হচ্ছেঃ
- Akismet Anti-spam
- Contact Form 7
- Rank Math SEO
- Elementor
৫। আর্টিকেল পোস্ট করুন
এখন আপনার ওয়েবসাইট মোটামুটি প্রস্তুত। এইবার আপনি যেকোনো আর্টিকেল লিখে সেটি পোস্ট করতে পারবেন।
ওয়ার্ডপ্রেসে আর্টিকেল পোস্ট করা একদম সহজ। ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড এর মেনুতে Posts নামক একটি অপশন আছে, সেখান থেকে Add a New Post এ ক্লিক করে আপনি আপনার পোস্ট লিখতে পারবেন।
তারপর Publish বাটনে ক্লিক করলেই পোস্ট প্রকাশিত হতে যাবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটররা সে সকল পোস্ট পড়তে পারবে।
একটা সময় যখন অনেগুলো পোস্ট করা হয়ে যাবে তখন গুগল এডসেন্স এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। যদি মনিটাইজেশন চালু হয়ে যায় তখন আপনি ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন।
সর্বশেষ কথা
ওয়েবসাইট তৈরি করা কোনো কঠিন কাজ না। হ্যা, ২০০০ সালের আগে যখন ওয়ার্ডপ্রেস ছিল না তখন HTML এবং CSS দিয়ে কোডিং করে ওয়েবসাইট বানাতে হলো। কিন্তু এখন খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
আশা করি আপনি আপনার প্রশ্ন ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয় তার উত্তর যথাযথভাবে পেয়েছে। উপরোক্ত ওয়েবসাইট তৈরির ধাপসমূহ অনুসরন করে আপনি নিজে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন নতুন ওয়েবসাইট। আর অবশ্যই যেকোনো সমস্যার কথা নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।








